জন্মনিবন্ধনেও ঘুষ !!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রতিটি শিশুর জন্ম থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধন ফ্রি। আর ৫ বছর বয়স পর্যন্ত ২৫ টাকা এবং ০৫ (পাঁচ) বছর বয়সের উপরের সকলের জন্যই সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকা জন্মনিবন্ধন ফি নেয়ার নীতিমালা বাংলাদেশ গেজেটে উল্লেখ থাকলেও সরকারের নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জন্মসনদের অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগটি নতুন নয় বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ এ ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জন্ম নিবন্ধন করতে আসা প্রায় সকল নাগরিকদের কাছ থেকে ৫০ টাকার স্থলে সর্বনিন্ম ১০০ টাকা বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করছে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন কর্মকর্তা জসিম ও তার সহযোগি কম্পিউটার অপারেটর আলতাফ। অথচ সরকারি গেজেটে রাষ্ট্রপতির দেয়া আদেশে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত ২৫ টাকা এবং ০৫ (পাঁচ) বছর বয়সের উপরের সকলের জন্যই সরকার নির্ধারিত ফি ৫০টাকা।
জন্মনিবন্ধন করতে আসা শাহীন আলম নামে এক ভুক্তভোগি জানান, সরকারি ফি ৫০ টাকা হওয়ার পরও এ ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তিনিও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দুইটি জন্মনিবন্ধন প্রস্তুত করা বাবদ ২০০ টাকা দিয়েছেন ।
আরেকজন ভুক্তোভোগি আব্দুল কাদের জানান, তিনি জন্মনিবন্ধন করতে ১০০ টাকা দিয়েছেন।
অনুসন্ধান বলছে, প্রতিদিন এ ওয়ার্ডে জন্মনিবন্ধন করতে আসা নাগরিকের সংখ্যা ১৫০ জন, সরকারি ফি ৫০ টাকা হলেও বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিজন থেকে নেয়া হয় ১০০ টাকা। যেখানে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ৫০ টাকা। আর এ হিসেবেই প্রতিদিন তারা আয় করছে ৭৫০০, মাস শেষে যার হিসেব দাঁড়ায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করল অভিযুক্ত জসিম ও কম্পিউটার অপারেটর আলতাফ । শুধু তাই নয় এ অনিয়মের ব্যাপারে কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন খানও অবগত আছেন বলেন নিশ্চিত করল ওয়ার্ডে কর্মরত এই দুই কর্তা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন খান ক্ষিপ্ত হয়ে এ অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য নানা ধরণের হুমকি প্রদান করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি চেয়ার থেকে উঠে তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরপর নিজ হাতে সাংবাদিকদের মোবাইল ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন তিনি। তারপর ক্যামেরায় ধারণকৃত অনিয়মের চিত্র অভিযুক্ত ঐ দুই ব্যক্তির মাধ্যমে মুছে ফেলেন জনপ্রতিনিধি কফিল উদ্দিন খান।
এ ধরণের অনিয়ম রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *