চট্টগ্রামে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষনের পর হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

দেশযোগ নিউজ:
চট্টগ্রামে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী রেবেকা সুলতানা পলিকে ধর্ষনের পর হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে রেবেকা সুলতানা পলির পরিবার ও উপস্থিত বক্তারা বলেন,
গত ২ অক্টোবর ২০১৯ ইং তারিখে বিকেল ৫টা থেকে ৬ টার দিকে চট্টগ্রামের স্কুল ছাত্রী রেবেকা সুলতানা পলি ১৪ নং বন্দর এলাকায় তাদের বিল্ডিংয়ের মালিক আবুল কাশেম খান কর্তৃক ধর্ষনের শিকার হয়। এসময় তার মা ভাই ছিলো ভাড়ির বাইরে এবং পলি বাসায় ছিলো একা। সেই সুযোগে বাড়ির মালিক আবুল কাশেম খানের লালসার স্বীকার হয় ৬ষ্ঠ শ্রেনির এই শিক্ষার্থী। ধর্ষনের পর পলিকে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে ধর্ষক আবুল কাশেম। ধর্ষক ও ঘাতক আবুল কাশেম খানের বিচারের দাবীতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ।উক্ত মানব বন্ধনে নিহত পলির মা প্রশাসনের হয়রানি বন্ধ সহ, তার মেয়ের খুনি আবুল কাশেমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। উক্ত মানব বন্ধনে পলিকে ধর্ষনের পর হত্যার বিষয়ে তার বড় ভাই রাসেল জানান, গত ০২-১০-২০১৯ইং তারিখ সন্ধ্যায় আমার বোন রেবেকা সুলতানা পলি হত্যা হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন ৮ঃ৩০ এর দিকে আমাদের বাসায় আসে এবং লাশ নামিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। তখন আমার বোনের পিঠে আঘাতের চিহ্ন, ঠোঁটে কামড়ের দাগ, গলায় নখের দাগ, মুখে হাতের ছাপ, হাতের কব্জি ভাঙ্গা এবং তালুতে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও সুরতহালে তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে আসামি আবুল কাশেম খান কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় যাওয়ার পর আসামীপক্ষ পুলিশ প্রশাসনকে টাকা দিতে আমরা স্বচক্ষে দেখি। তখন এই ঘটনাকে সামনে এগিয়ে না নেওয়ার জন্য পুলিশ পক্ষ থেকে আমাদেরকে ১৪ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তা নাকচ করি।
পরবর্তীতে লাশ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আমরা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে প্রশাসন মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আমরা অভিযোগ দায়ের করতে চাইলে অভিযোগ নিতেও অস্বীকৃতি জানায়। তখন আমরা মিডিয়ার শরনাপন্ন হলে তারপর তারা মামলা নেয়। তবে আমরা মামলায় আবুল কাশেম খানকে আসামি করতে চাইলে পুলিশ তা না করে আসামি অজ্ঞাত রেখে মামলা করে। আসামীর অর্থবিত্ত ও প্রভাব প্রতিপত্তি থাকায় এবং পুলিশ প্রশাসনের এমন ভূমিকায় আমরা এখন ন্যায়বিচার নিয়ে শংকায় আছি। উক্ত মানব বন্ধনে যোগ দেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, মহানগর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি জয়নাল উদ্দীন জাহেদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এবং আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ। উক্ত মানব বন্ধনে প্রশাসনের এমন কর্মকান্ডে সবাই তীব্র নিন্দা জানান এবং সুষ্ঠু ময়না তদন্তের মাধ্যমে ধর্ষক ও ঘাতক আবুল কাশেম খানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *